Latest from The Reporter 24

Loading news...

দ্য রিপোর্টার ২৪ পড়ুন বাংলায়

ক্লিক করে পুরো সাইট বাংলায় পড়ুন

দ্য রিপোর্টার ২৪ | শেষ সংবাদ

মিয়ানমারে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: শিশুসহ নিহত অন্তত ৫৫

 

ইয়াঙ্গুন — মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যের একটি গ্রামে খনিতে ব্যবহৃত বিস্ফোরক মজুত কেন্দ্রে আকস্মিক এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। 

রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র ও বিদ্রোহী কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

চীন সীমান্তের কাছে অবস্থিত নামখাম টাউনশিপের কাউং টাট গ্রামে এই বিপর্যয় ঘটে। এলাকাটি বর্তমানে তা'আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (TNLA) নামক একটি শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

তীব্র ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞ

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, পুরো গ্রামজুড়ে এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও এবং ছবিতে দেখা গেছে, ঘন বসতিপূর্ণ এলাকার মাঝখানে একটি বিশাল গর্ত বা ক্রেটার তৈরি হয়েছে এবং চারপাশের ভবনগুলো ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

  • হতাহতের সংখ্যা: উদ্ধারকাজের সঙ্গে যুক্ত একটি স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী এবং ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • আবাসিক এলাকা ধ্বংস: বিস্ফোরণের ধাক্কায় প্রায় পুরো একটি পাড়া নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। মাইলের পর মাইল দূর থেকে আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে।

  • বিমান হামলার আতঙ্ক: আকস্মিক এই বিকট শব্দ ও কম্পনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ভেবেছিলেন যে সামরিক জান্তা বাহিনী তাদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে।

বিস্ফোরণের কারণ ও খনি নিরাপত্তা

বিদ্রোহী গোষ্ঠী টিএনএলএ (TNLA) তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি একটি "দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ" ছিল। স্থানীয় পাথর কোয়ারি ও খনির কাজে ব্যবহারের জন্য মজুত করে রাখা বাণিজ্যিক গ্রেডের ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিস্ফোরক থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো তাদের সামরিক অভিযানের তহবিল জোগাতে মূল্যবান খনিজ ও রত্নপাথর উত্তোলনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব, ত্রুটিপূর্ণ সংরক্ষণাগার এবং তদারকির ঘাটতির কারণে এই অঞ্চলের খনিগুলোতে প্রায়শই মারাত্মক দুর্ঘটনা ও ধসের ঘটনা ঘটে থাকে।

ক্ষোভ ও জবাবদিহিতার দাবি

দুর্ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রিয়জনদের উদ্ধার করার সময় অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। 

এক স্থানীয় বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অলৌকিক বেঁচে যাওয়ার গল্প শেয়ার করে লিখেছেন, "চারপাশে শুধু মানুষের আর্তনাদ ছিল... মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীটা ধ্বংস হয়ে গেছে।"

এদিকে, জনবহুল আবাসিক এলাকার এত কাছাকাছি কেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ বিস্ফোরক মজুত কেন্দ্র গড়ে তুলতে দেওয়া হলো, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসী এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সুষ্ঠু জবাবদিহিতার দাবি তুলেছেন। 

টিএনএলএ কর্তৃপক্ষ হতাহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে জরুরি সহায়তা দেওয়ার কথা বললেও, ঠিক কী কারণে প্রথম আগুন লেগেছিল তা এখনও স্পষ্ট করেনি।