Latest from The Reporter 24

Loading news...

দ্য রিপোর্টার ২৪ পড়ুন বাংলায়

ক্লিক করে পুরো সাইট বাংলায় পড়ুন

দ্য রিপোর্টার ২৪ | শেষ সংবাদ

বাংলাদেশ বাজেট ২০২৬-২৭: সিগারেট, জ্বালানি চালিত গাড়ি, কাজুবাদাম ও সাইকেলের দাম বাড়ছে; চাল, মসলা, ল্যাপটপ এবং স্বর্ণের গহনা হচ্ছে সস্তা

 


ঢাকা — জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য ৯.৩৮ ট্রিলিয়ন টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি সরকারের বর্তমান মেয়াদের এটিই প্রথম বাজেট। এই নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং শুল্কায়নের নূন্যতম মূল্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বাজেটের মূল কৌশল হিসেবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য ও জ্বালানি-নির্ভর গাড়ির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সামগ্রীর ওপর থেকে বড় আকারে শুল্ক ও কর কমানো হয়েছে।

পকেটে টান: যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি রোধ করা এবং স্থানীয় উৎপাদকদের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে বেশ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানো হয়েছে।

তামাক ও জ্বালানি চালিত গাড়ি

  • সিগারেট ও নিকোটিন: ধূমপান আরও ব্যয়বহুল করতে ১০ শলাকার সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য চারটি স্তরে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে: নিম্ন স্তর ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তর ২১০ টাকা। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে নিকোটিন পাউচ ও গ্র্যানুলসের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • জ্বালানি চালিত গাড়ি: পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল চালিত যানবাহনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ১,২০০ সিসি থেকে ১,৬০০ সিসির মাঝারি মানের অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন (ICE) বিশিষ্ট গাড়ি আমদানির ওপর মোট করের বোঝা ১৩২.৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ করা হচ্ছে।

আমদানিকৃত খাদ্য ও কৃষিপণ্য

  • কাজুবাদাম: দেশে কাজুবাদাম চাষ ও উৎপাদন বাড়াতে কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত উভয় ধরনের কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে এক লাফে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে (যা আগে যথাক্রমে ১% ও ৫% ছিল)। তবে স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার সুবিধার্থে কাঁচা কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশ

  • পাঙ্গাস ফিলেট ও মধু: দেশীয় মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানিকৃত পাঙ্গাস মাছের ফিলেটের ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া আমদানিকৃত প্রাকৃতিক মধুর ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য প্রতি ইউনিটে ২ ডলার বাড়িয়ে ৭ ডলার করা হয়েছে, যা এর খুচরা মূল্য বাড়িয়ে দেবে।

  • সুপারি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: আমদানিকৃত সুপারির ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য প্রতি ইউনিটে ০.২৫ ডলার বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আমদানিকৃত কফি, সুগার কনফেকশনারি এবং তাৎক্ষণিক খাওয়ার উপযোগী প্যাকেটজাত খাবারের আমদানি শুল্কের বোঝা বাড়ছে।

গৃহস্থালি সামগ্রী, নির্মাণ খাত ও প্রসাধন

  • ওয়াশিং মেশিন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স: দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করতে সব ধরনের আমদানিকৃত গৃহস্থালি ওয়াশিং মেশিনের ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া শুল্ক কাঠামো পরিবর্তনের কারণে আমদানিকৃত মাইক্রোওয়েভ ওভেন, খেলনা, ফোম, টাইলস এবং স্যানিটারি ওয়্যারের দাম বাড়তে পারে।

  • বাইসাইকেল: দেশীয় বাইসাইকেল উৎপাদনকারীদের জন্য যন্ত্রাংশ আমদানির খরচ বাড়বে। বাইসাইকেলের ফ্রি-হুইল পার্টস আমদানির শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • রড ও গ্যাস সিলিন্ডার: রড তৈরির কাঁচামালের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর ফলে আবাসন খাতে খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি আমদানিকৃত কম্পোজিট এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের ওপর আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

  • প্রসাধন: কাস্টমস শুল্কায়নের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে আমদানিকৃত লিপ লাইনার ও লিপ জেলের দাম বাড়তে যাচ্ছে।

স্বস্তির বার্তা: যেসব পণ্যের দাম কমছে

দীর্ঘদিন ধরে চলা উচ্চ জীবনযাত্রার খরচ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে অর্থমন্ত্রী অনেক পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও অগ্রিম কর প্রত্যাহার করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পুরোপুরি তুলে নিয়েছেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল-ডাল ও রান্নাঘরের সামগ্রী

  • ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য: সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজ এবং গবাদিপশু ও মাছসহ ৬০টি জরুরি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ১ থেকে ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে এক ধাক্কায় মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • মসলা ও খেজুর: রান্নার খরচ কমাতে জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, ধনে এবং গোলমরিচের ওপর থাকা বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (রেগুলেটরি ডিউটি) পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে আমদানিকৃত খেজুরের ওপর থেকেও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে।

  • শিশুখাদ্য: দেশীয় কারখানায় শিশুখাদ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানি

  • কম্পিউটার ও ল্যাপটপ: দেশের প্রযুক্তি খাতকে গতিশীল করতে ল্যাপটপ, ডেক্সটপ কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টার এবং সার্ভার আমদানির ওপর থেকে সব ধরনের আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

  • বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV): পরিবেশবান্ধব যানবাহনের বাজারে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। ২৫,০০০ ডলার মূল্যমানের বৈদ্যুতিক গাড়ির করের বোঝা ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০,০০০ ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে তা ৮০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি (PHEV), চার্জিং স্টেশনের যন্ত্রপাতি এবং বিআরটিএ (BRTA) নিবন্ধন ফি-তেও বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে।

  • সৌর বিদ্যুৎ: সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরঞ্জাম এবং পিওএস (POS) মেশিনের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা, অলঙ্কার ও বিনোদন

  • কিডনি ডায়ালিসিস ও ক্যানসারের ওষুধ: কিডনি রোগীদের বড় স্বস্তি দিয়ে আমদানিকৃত ডায়ালিসিস ফিল্টারের ওপর থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতি ডায়ালিসিস সেশনে রোগীদের খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে। এছাড়াও ক্যানসারের ওষুধ তৈরির ৯টি নতুন কাঁচামালসহ সাধারণ ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

  • স্বর্ণের গহনা: স্বর্ণ সরবরাহের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে ২,৫০,০০০ টাকা মূল্যের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনায় ভ্যাট ও করের বোঝা ১২,৫০০ টাকা থেকে কমে মাত্র ২,৫০০ টাকা হবে।

  • বাদ্যযন্ত্র ও সিনেমা সরঞ্জাম: গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা, প্রজেক্টর ও এদের খুচরা যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

  • ত্বকের যত্ন: ঠোঁটের প্রসাধনীর দাম বাড়লেও, শুল্কায়নের নিয়ম পরিবর্তনের কারণে আমদানিকৃত ফেসওয়াশ ও লিপস্টিকের দাম বাজারে কমতে পারে।