Latest from The Reporter 24

Loading news...

দ্য রিপোর্টার ২৪ পড়ুন বাংলায়

ক্লিক করে পুরো সাইট বাংলায় পড়ুন

দ্য রিপোর্টার ২৪ | শেষ সংবাদ

বিচারবিভাগের ওপর আঘাত: কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু

 


নয়াদিল্লি
— দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং আম আদমি পার্টির (আপ) অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা


আজ এক পর্যবেক্ষণে জানান যে, বিচারাধীন মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিকর ও মানহানিকর প্রচারণার মাধ্যমে বিচারবিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিচারপতির মতে, এই প্রচারণা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি "সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক retaliation" বা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।


কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?

  • পারিবারিক হেনস্থা: বিচারপতি শর্মা অভিযোগ করেন যে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে বিকৃত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি শুধুমাত্র একজন বিচারপতিকে নয়, বরং পুরো বিচারিক প্রতিষ্ঠানকে ভয় দেখানোর একটি অপপ্রয়াস।

  • সমান্তরাল বয়ান তৈরি: আদালতের ভেতরে যখন আইনি বিতর্ক চলছে, তখন বাইরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাজনৈতিক শক্তির জোরে একটি ভিন্ন বয়ান বা 'প্যারালাল ন্যারেটিভ' তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আদালত মনে করে।

  • আস্থার সংকট তৈরির চেষ্টা: রায়ে বলা হয়েছে, বিচারবিভাগের শক্তি কোনো পেশ পেশিশক্তিতে নয়, বরং জনগণের আস্থার ওপর টিকে থাকে। সেই আস্থা নষ্ট করার যেকোনো সংগঠিত চেষ্টা আদালত অবমাননার শামিল।


সংঘাতের পটভূমি

দিল্লি আবগারি নীতি মামলায় অভিযুক্ত অরবিন্দ কেজরিওয়াল সম্প্রতি বিচারপতি শর্মার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিচারপতি এই মামলা থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকার করার পর, কেজরিওয়াল এক বিবৃতিতে জানান যে তিনি আর এই আদালতে কোনো শুনানিতে অংশ নেবেন না। তিনি সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ লেখেন যে, তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা "চূর্ণবিচূর্ণ" হয়ে গেছে এবং তিনি মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের পথ অনুসরণ করে এই আদালত বয়কট করছেন।

বিচারপতির চূড়ান্ত বার্তা

আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করে বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা বলেন, "একজন বিচারপতির পোশাক আমাদের শান্ত থাকতে শেখায়। কিন্তু কখনো কখনো নীরবতা আর বিচারিক সংযম থাকে না; আজ সেই সময় এসেছে যখন পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।"

তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিচার বিভাগ কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয় এবং এটি কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।