ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর: বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু
বেইজিং – এক দশকের ব্যবধানে আবারও চীনের মাটিতে পা রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৩ মে, ২০২৬) সন্ধ্যায় বেইজিং পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। ২০১৭ সালের সফরের তুলনায় এবার ট্রাম্পকে আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী এক চীনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এবারের দুই দিনের এই সফরে ট্রাম্পের সাথে রয়েছেন মার্কিন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা, যার মধ্যে টেসলার ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং অন্যতম। সফরটি মূলত গত মার্চ মাসে হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে তা পিছিয়ে যায়।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু (এজেন্ডা)
বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ দুই নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হবে। আলোচনার টেবিলে থাকা প্রধান বিষয়গুলো হলো:
বাণিজ্য ও শুল্ক নীতি: গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ট্রাম্প চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার দাবি জানাবেন এবং মার্কিন কৃষি পণ্যের ক্রয় বাড়ানোর জন্য চাপ দেবেন।
ইরান সংকট: ইরান থেকে চীনের তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই যুদ্ধ বন্ধে চীনের প্রভাব কাজে লাগানোর বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রযুক্তি ও এআই (AI): চীন বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স খাতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো মার্কিন চিপ প্রযুক্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং একই সাথে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীনের বাজার সহজতর করা।
তাইওয়ান ইস্যু: গত বছর তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়ার পর এই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন সিনেটররা ট্রাম্পকে তাইওয়ানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিবর্তনের এক দশক: শক্তিশালী চীন ও চংকিংয়ের রূপান্তর
২০১৭ সালে ট্রাম্প যখন শেষবার বেইজিং সফর করেছিলেন, তখন চীন বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার সমান মর্যাদা পাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে ওয়াশিংটন নিজেই চীনকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বীকার করে নিচ্ছে।
চীনের এই অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর চংকিংকে (Chongqing)। এক সময়ের সাধারণ শিল্প নগরী আজ রোবটিক্স, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যাকে অনেকে এখন বিশ্বের "সাইবারপাংক রাজধানী" হিসেবে অভিহিত করছেন। যদিও চীনের এই দ্রুত উন্নয়নের পেছনে বিশাল ঋণের বোঝা এবং ধীরগতির আবাসন খাতের মতো অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
আগামী শুক্রবার শি জিনপিংয়ের সাথে মধ্যাহ্নভোজ ও একটি "বন্ধুত্বপূর্ণ ছবি" তোলার মাধ্যমে ট্রাম্প তার এই সফর শেষ করবেন। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে এই দুই পরাশক্তির বৈঠকের ফলাফলের দিকে।
