ক্রুজ শিপে হান্টভাইরাস আতঙ্ক: ঝুঁকি কম হলেও সতর্ক অবস্থানে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

 

ওমাহা, নেব্রাস্কা- ১২ মে, ২০২৬:  সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় যাত্রা শুরু করা এমভি হোন্ডিয়াস (MV Hondius) নামক একটি প্রমোদতরীতে হান্টভাইরাসের (Hantavirus) প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সাধারণ জনগণের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি "অত্যন্ত কম" বলে আশ্বস্ত করেছেন।

বর্তমানে এই জাহাজের ১৮ জন আমেরিকান যাত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জনকে নেব্রাস্কা মেডিকেল সেন্টারে এবং বাকি দুজনকে আটলান্টায় বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


মূল তথ্যাবলী এবং বর্তমান পরিস্থিতি

  • আক্রান্ত ও মৃত্যু: প্রমোদতরীটির যাত্রীদের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনজন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে একজন ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নারী রয়েছেন। কমপক্ষে দুজনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি: নেব্রাস্কায় আনা ১৬ জনের মধ্যে একজন পূর্বে পজিটিভ শনাক্ত হলেও বর্তমানে তার কোনো লক্ষণ নেই। বাকি ১৫ জনকে কোয়ারেন্টাইন ইউনিটে রাখা হয়েছে।

  • লক্ষণসমূহ: আক্রান্তদের মধ্যে সাধারণত জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথা ঘোরা, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং বমিভাবের মতো ফ্লু-জাতীয় লক্ষণ দেখা দেয়।


ভাইরাসটি কীভাবে ছড়ায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মলমূত্র বা লালার মাধ্যমে ছড়ায়। তবে এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী 'আন্দিজ স্ট্রেইন' (Andes Strain) অত্যন্ত বিরল, কারণ এটি মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে ছড়াতে সক্ষম।

  • ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ: এই ভাইরাসটি ছড়ানোর জন্য অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের প্রয়োজন হয়, যেমন একই থালা-বাসন ব্যবহার করা বা দীর্ঘক্ষণ (১৫ মিনিটের বেশি) খুব কাছাকাছি থাকা।

  • সাধারণ চলাচলে ঝুঁকি নেই: এটি সাধারণ ফ্লু বা কোভিডের মতো বাতাসে সহজে ছড়ায় না, তাই সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন সিডিসি-র (CDC) ডঃ ব্রেন্ডন জ্যাকসন।


প্রতিরোধ ও প্রতিকার

এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা প্রতিষেধক নেই। তাই প্রতিরোধই প্রধান উপায়।

  • কোয়ারেন্টাইন: ভাইরাসের সুপ্তাবস্থা বিবেচনা করে সম্ভাব্য আক্রান্তদের ২১ থেকে ৪২ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

  • চিকিৎসা: লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষায়িত আইসোলেশন ইউনিটে রেখে অক্সিজেন থেরাপিসহ নিবিড় পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়।

নেব্রাস্কার গভর্নর জিম পিলেন সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হতে পারে এমন কাউকে হাসপাতালের বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা কার্যকর রয়েছে।