Latest from The Reporter 24

Loading news...

দ্য রিপোর্টার ২৪ পড়ুন বাংলায়

ক্লিক করে পুরো সাইট বাংলায় পড়ুন

দ্য রিপোর্টার ২৪ | শেষ সংবাদ

প্রবল চাপের মুখেও পদত্যাগ করছেন না স্টারমার: দলকে বাঁচাতে অভিজ্ঞ নেতাদের শরণাপন্ন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

 




লন্ডন প্রতিনিধি | ৯ মে, ২০২৬

ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে। নিজ দল লেবার পার্টির অভ্যন্তরে পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠলেও তাতে কান দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বরং দলের টলমলে অবস্থা সামাল দিতে গর্ডন ব্রাউন ও হ্যারিয়েট হারম্যানের মতো ঝানু রাজনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে এনেছেন তিনি।

অভিজ্ঞদের ওপর ভরসা

নির্বাচনি ভরাডুবির পর দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে 'বৈশ্বিক অর্থায়ন' বিষয়ক বিশেষ দূত এবং সিনিয়র নেত্রী হ্যারিয়েট হারম্যানকে 'নারী ও শিশু' বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন স্টারমার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষীয়ান এই নেতাদের নিয়োগ দিয়ে স্টারমার মূলত দলের অসন্তুষ্ট সংসদ সদস্য এবং কর্মীদের এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তার রয়েছে।

ভুল স্বীকার কিন্তু সরে দাঁড়াতে নারাজ

নির্বাচনে পরাজয়ের দায় স্বীকার করে স্টারমার জানিয়েছেন, লেবার পার্টি কিছু "অপ্রয়োজনীয় ভুল" করেছে। তিনি স্বীকার করেন যে, তার সরকার জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের মনে আশার আলো দেখাতে না পারার ব্যর্থতা মেনে নিলেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে পদত্যাগ করে দেশকে বিশৃঙ্খলার মুখে ঠেলে দেবেন না তিনি। বরং সামনের দিনগুলোতে নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সমালোচনার মুখে নতুন নিয়োগ

স্টারমার এই নিয়োগগুলোকে "ভবিষ্যৎমুখী" বলে দাবি করলেও দলের ভেতরেই এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু সংসদ সদস্য মনে করছেন, পুরনো চেহারার নেতাদের ফিরিয়ে আনা মানে নতুন চিন্তার অভাব। ভোটাররা যখন নতুনত্ব খুঁজছেন, তখন প্রবীণ নেতাদের ওপর নির্ভর করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।

নির্বাচনের ফলাফল ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে লেবার পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ওয়েলসে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সেখানে 'প্লাইড কামরি' (Plaid Cymru) বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। স্কটল্যান্ডেও লেবার পার্টি আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। অন্যদিকে ইংল্যান্ডে 'রিফর্ম ইউকে' পার্টির উত্থান লেবার ও কনজারভেটিভ—উভয় দলের ভোট ব্যাংককেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

সারসংক্ষেপ: অর্থনৈতিক অস্থিরতা আর রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার অভাবে ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কিয়ার স্টারমার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও তার নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। আগামী কয়েক সপ্তাহ লেবার পার্টির অস্তিত্ব এবং স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।