ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানের সাথে চূড়ান্ত চুক্তি না হলে 'ভয়াবহ যুদ্ধের' শঙ্কা

 


ওয়াশিংটন / ইসলামাবাদ – পারস্য উপসাগরে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার অবসান ঘটাতে ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই শান্তি চুক্তি না হলে ইরানে আবারও হামলা শুরু হবে। ট্রাম্পের মতে, এবারের আক্রমণ হবে আগের 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ভয়াবহ。

এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, একটি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি হতে পারে, তবে ইরান রাজি না হলে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু হবে。 এই ঘোষণার মাত্র একদিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের 'আক্রমণাত্মক ধাপ' শেষ হয়েছে。

মধ্যস্থতা ও ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাব

বর্তমানে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। জানা গেছে, হোয়াইট হাউস একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক তৈরি করেছে, যার মূল বিষয়গুলো হলো:

  • ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা。

  • ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা。

  • হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা。

তবে ইরানের পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, প্রস্তাবটি তারা বিবেচনা করছে。 অন্যদিকে, ইরানি পার্লামেন্টের কিছু সদস্য একে মার্কিন 'আকাঙ্ক্ষার তালিকা' হিসেবে বর্ণনা করে প্রত্যাখ্যান করেছেন。

'প্রজেক্ট ফ্রিডম' স্থগিত ও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি

হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে বের করে আনার জন্য শুরু করা 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র。 ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে。 এর আগে একটি ফরাসি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় এই এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে。

এদিকে, শান্তি চুক্তির খবরের রেশ ধরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। ব্যারেল প্রতি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০৮ ডলার থেকে নেমে ১০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে。 তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, চুক্তি না হলে তেলের দাম আবারও আকাশচুম্বী হতে পারে。

বর্তমানে পারস্য উপসাগরে প্রায় এক হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক আটকা পড়ে আছেন。 আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই অঞ্চলের শান্তি নাকি নতুন কোনো সংঘাত।