সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে বাতিল হবে মার্কিন পাসপোর্ট: কড়াকড়ি শুরু

 


ওয়াশিংটন — সন্তানদের ভরণপোষণের (Child Support) অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া থাকা অভিভাবকদের পাসপোর্ট সরাসরি বাতিল করা শুরু হবে।

লক্ষ্য যখন লাখ ডলারের ঋণ

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, শুক্রবার থেকেই এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সেই সমস্ত অভিভাবকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে যাদের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা) বা তার বেশি। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (HHS) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২,৭০০ জন পাসপোর্টধারী এই তালিকায় রয়েছেন।

কঠোর আইনের প্রয়োগ

যদিও এই মুহূর্তে বড় অংকের ঋণখেলাপিদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তবে খুব শীঘ্রই এই অভিযান আরও বিস্তৃত করা হবে। ১৯৯৬ সালের একটি আইন অনুযায়ী, কারো বকেয়া পাওনা ২,৫০০ ডলারের বেশি হলেই তার পাসপোর্ট বাতিল বা নবায়ন স্থগিত করার নিয়ম রয়েছে। এতদিন এই নিয়মটি কেবল পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে কার্যকর করা হতো, কিন্তু এখন থেকে চালু থাকা বৈধ পাসপোর্টও সরাসরি বাতিল করা হবে।

সরকারের বক্তব্য: এটি অধিকার নয়, বিশেষ সুযোগ

কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্সের সহকারী সচিব মোরা নামদার বলেন, "যারা সন্তানদের প্রতি তাদের আর্থিক দায়িত্ব পালন করছেন না, তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই সাধারণ নিয়মটি কার্যকর করা হচ্ছে। ঋণ পরিশোধ করলেই তারা পুনরায় মার্কিন পাসপোর্টের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।"

সরকারি তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শত শত অভিভাবক তাদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে শুরু করেছেন। ১৯৯৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৬৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বকেয়া অর্থ আদায় করা সম্ভব হয়েছে।

বিদেশে থাকা নাগরিকদের ওপর প্রভাব

যে সমস্ত মার্কিন নাগরিক বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং এই তালিকায় নাম রয়েছে, তাদের পাসপোর্ট বাতিল হলে তারা বিপাকে পড়বেন। এই ক্ষেত্রে:

  • তারা সাধারণ যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ করতে পারবেন না।

  • তাদের নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করতে হবে।

  • দেশে ফেরার জন্য তাদের কেবল একটি জরুরি ভ্রমণ নথি (Emergency Travel Document) দেওয়া হবে, যা দিয়ে তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারবেন।

ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ বা সংশ্লিষ্ট রাজ্য কর্তৃপক্ষের সাথে পেমেন্ট প্ল্যান চূড়ান্ত না করা পর্যন্ত তারা নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।