ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা: দোহায় শান্তি আলোচনার সমান্তরাল পরিস্থিতি




আন্তর্জাতিক ডেস্ক — পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের সেনা সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে সোমবার রাতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও প্রেক্ষাপট

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরান পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন বসানোর কাজে নিয়োজিত বেশ কিছু নৌযানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্যমতে, এটি ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ। তবে একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করেছে যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করছে।

উল্লেখ্য, সোমবার গভীর রাতে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরসহ আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। যদিও এ বিষয়ে ইরান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কাতারে কূটনীতির জটিল সমীকরণ

এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে কাতারের দোহায় তেহরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, চুক্তির রূপরেখা ‘প্রায় চূড়ান্ত’ পর্যায়ে রয়েছে। তবে সমঝোতার পথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাধার কথা উঠে আসছে:

  • পারমাণবিক ইস্যু: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করার, নতুবা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

  • আব্রাহাম অ্যাকর্ড ও আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যে, এই শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরব, পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এ স্বাক্ষর করতে হবে।

  • চুক্তির চূড়ান্ত রূপ: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, আলোচনার বড় একটি অংশে ঐক্যমত্য হলেও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সময় এখনো আসেনি। ওয়াশিংটনের অবস্থানের বারবার পরিবর্তনের কারণে আলোচনা বিলম্বিত হচ্ছে বলে তেহরান অভিযোগ করেছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টিই এই আলোচনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সামরিক বাহিনীর শক্তি প্রদর্শন এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিল—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন শান্তি প্রক্রিয়ার প্রধান চ্যালেঞ্জ।