Latest from The Reporter 24

Loading news...

দ্য রিপোর্টার ২৪ পড়ুন বাংলায়

ক্লিক করে পুরো সাইট বাংলায় পড়ুন

দ্য রিপোর্টার ২৪ | শেষ সংবাদ

জলবায়ু সুরক্ষা ও টেকসই জ্বালানি: ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে বাস্তবায়নের নতুন সংকল্প

 


সান্তা মার্তা, কলম্বিয়া – ২০২৬ সালকে বৈশ্বিক পরিবেশ রক্ষার ইতিহাসে একটি 'বিপ্লবী বছর' হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। মে মাসের শুরুতে কলম্বিয়ার সান্তা মার্তায় অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জনের একটি নির্দিষ্ট এবং কঠোর রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে, যা 'সান্তা মার্তা অ্যাকর্ড' নামে পরিচিতি পেয়েছে। এই সমঝোতার প্রধান লক্ষ্য হলো—শুধু ঘোষণা নয়, বরং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।

জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জন ও আধুনিক জ্বালানি অবকাঠামো

এবারের আলোচনায় দেশগুলো কেবল কয়লা ও গ্যাসের ব্যবহার কমানোর কথাই বলেনি, বরং একটি কার্যকর 'ডিকমিশনিং' বা কেন্দ্র বন্ধ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে:

  • বার্ষিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা: অংশগ্রহণকারী দেশগুলো প্রতি বছর তাদের জ্বালানি কেন্দ্রগুলো বন্ধ করার একটি আইনি প্রতিবেদন পেশ করতে বাধ্য থাকবে।

  • বিকল্প হিসেবে গ্রিন হাইড্রোজেন: জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে গ্রিন হাইড্রোজেন এবং উন্নত সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

  • প্রযুক্তিগত তদারকি: একটি নতুন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্যানেল (GSTP) গঠন করা হয়েছে, যারা দেশগুলোকে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সরাসরি শূন্য-নির্গমন প্রযুক্তি ব্যবহারে সাহায্য করবে।


পরিবেশ ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন (মে ২০২৬ আপডেট)

পরিবেশ সুরক্ষায় প্রযুক্তির প্রভাব এখন দৃশ্যমান:

  • সৌর প্রযুক্তিতে অগ্রগতি: ২ মে ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা বিসমাথ ভ্যানাডেট ($\beta$-BiVO₄) নামক উপাদানের মাধ্যমে সৌর শক্তি থেকে হাইড্রোজেন তৈরির ক্ষমতা ১৫% বাড়িয়ে দিয়েছেন।

  • অ্যামাজন বন রক্ষা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত 'ডিজিটাল ক্যানোপি' সিস্টেমের ব্যবহারের ফলে গত বছরের তুলনায় ব্রাজিলের অ্যামাজনে বন উজাড়ের হার ২২% হ্রাস পেয়েছে।

  • কার্বন পুনর্ব্যবহার: শিল্পকারখানার নির্গত বিষাক্ত কার্বনকে সরাসরি বিমানের জ্বালানিতে রূপান্তর করার জন্য বিশেষ মাইক্রো-চিপ প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে, যা কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে সহায়ক হবে।


বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যতের করণীয়

২০২৬ সালের মে মাসের পরিসংখ্যান বলছে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য শক্তির হার ৩৩.৮% এ পৌঁছে কয়লাকে অতিক্রম করেছে। চীন এবং ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতিগুলোও এখন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে।

বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: ২০২৬ সালের ‘স্টেট অফ ফাইন্যান্স ফর নেচার’ রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিবেশ বিনাশকারী জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে এখনও পরিবেশ রক্ষার তুলনায় ৩০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই এই ভর্তুকি বন্ধ করে সরাসরি টেকসই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

আগস্ট ২০২৬-এ মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ মরুভূমিকরণ বিরোধী সম্মেলনে (UNCCD COP 17) এই বিষয়ে আরও বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।