ইরান-আমিরাত সীমান্তে চরম উত্তেজনা, নৌ-পথে পাহারায় নামছে যুক্তরাষ্ট্র


 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ মে, ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিমুখে ইরানের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন জাহাজে কথিত হামলার দাবিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। সোমবার আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ১৫টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করার পর এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

হামলা ও প্রতিরোধের চিত্র

আমিরাতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা হয় ইরানের ১৫টি মারণাস্ত্র। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেই ফুজাইরাহ’র একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ এই অগ্নিকাণ্ডকে ‘রহস্যজনক’ হিসেবে দেখছে এবং এর সাথে আকাশ থেকে পড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। ইরান এখন পর্যন্ত এই ঘটনার দায় স্বীকার বা অস্বীকার কোনটিই করেনি।

সমুদ্রে পাল্টাপাল্টি অবস্থান

হরমুজ প্রণালী, যেখান দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়, বর্তমানে সেখানে ইরান ও মার্কিন বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

  • তেহরানের দাবি: তাদের সীমানার কাছে আসা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে সতর্ক করার পর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

  • ওয়াশিংটনের ব্যাখ্যা: পেন্টাগন এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, তাদের সব জাহাজ সুরক্ষিত আছে।

এরই প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বা ‘অভিযান মুক্তি’র ঘোষণা দিয়েছেন। এই প্রকল্পের অধীনে মার্কিন নৌ-বহর এখন থেকে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা দেবে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "আমেরিকানদের ওপর কোনো আঘাত এলে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ।"

অস্থিতিশীল জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক উদ্বেগ

এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে বিশ্ব তেলের বাজারে। তুরস্কের জ্বালানি মন্ত্রী সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের চরম লঙ্ঘন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনজীবন

আমিরাত সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ সতর্কতা হিসেবে দেশজুড়ে সব স্কুল-কলেজে সশরীরে পাঠদান বন্ধ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে গাজা ও লেবানন সংকটের পাশাপাশি এই নতুন সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে।