নির্বাচনী বিপর্যয়ে টালমাটাল স্টারমার সরকার: পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর
লন্ডন — ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। নির্বাচনে বড় ধরনের আসন হারানোর ফলে নিজের দলের ভেতর থেকেই তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে। তবে স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং দেশকে "বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দেবেন না"।
নির্বাচনী ফলাফলের মূল চিত্র
এবারের নির্বাচনে ব্রিটেনের চিরাচরিত দুই দলের (লেবার ও কনজারভেটিভ) আধিপত্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
রিফর্ম ইউকে-র জয়জয়কার: নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন 'রিফর্ম ইউকে' ইংল্যান্ডে ১৪০০-এর বেশি আসনে জয়লাভ করেছে। এমনকি লেবার ও কনজারভেটিভদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতেও তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
ওয়েলসে লেবারদের পতন: দীর্ঘ ২৭ বছর পর ওয়েলসের শাসন ক্ষমতা হারিয়েছে লেবার পার্টি। সেখানে 'প্লাইড কামরি' (Plaid Cymru) বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং রিফর্ম ইউকে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে।
স্কটল্যান্ডে এসএনপি-র দাপট: স্কটল্যান্ডে এসএনপি (SNP) বৃহত্তম দল হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। সেখানে লেবার পার্টি দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও রিফর্ম ইউকে-র কাছে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে।
গ্রিন পার্টির উত্থান: পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি ইংল্যান্ডে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে, যার মধ্যে লন্ডনের হ্যাকনি (Hackney) মেয়রের পদটি অন্যতম।
স্টারমারের বিরুদ্ধে দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ
ভয়াবহ এই পরাজয়ের পর অন্তত ২২ জন লেবার এমপি প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন অথবা তার সরে দাঁড়ানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে বলেছেন। এছাড়া প্রভাবশালী শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সরকারের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশলের পরিবর্তন চেয়ে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে।
স্টারমার বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় এমপি লুইস হেইগ জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা কমলেও এখনই অনাস্থা আনার সময় নয়। তবে পরিস্থিতি না বদলালে আগামী নির্বাচনে স্টারমার দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
স্টারমারের পরবর্তী পরিকল্পনা
এই ধাক্কা সামলে উঠতে আগামী সোমবার প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শনিবার 'দ্য গার্ডিয়ান' পত্রিকায় লেখা একটি নিবন্ধে তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভোটারদের দেওয়া বার্তাকে গুরুত্ব দিলেও তিনি কোনো চরম ডান বা বামপন্থী আদর্শের দিকে ঝুঁকবেন না।
ব্রিটিশ রাজনীতিতে এই ফলাফলকে এক "ঐতিহাসিক পরিবর্তন" হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী সাধারণ নির্বাচনের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
