জাপান যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন: প্রতিরক্ষা নীতি পরিবর্তনের প্রতিবাদে টোকিওতে উত্তাল জনতা

 



টোকিও — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কয়েক দশকের মধ্যে জাপানে এখন সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিরোধী গণবিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি’র নেতৃত্বাধীন সরকারের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টোকিওসহ জাপানের বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করেও বিক্ষোভকারীরা সরকারের নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে আসার অভিযোগ

২০২৫ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তাকাচি জাপানের ঐতিহ্যবাহী 'শান্তিবাদী' (Pacifist) ভাবমূর্তি থেকে সরে আসার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। গত ২১ এপ্রিল সরকার মরণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। সরকারের দাবি, চীন, উত্তর কোরিয়া এবং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় জাপানকে একটি ‘যুদ্ধ-সক্ষম’ (War-capable) জাতি হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।

তবে জাপানের সাধারণ মানুষ এবং অধিকারকর্মীদের মতে, সংবিধানের 'অনুচ্ছেদ ৯' (Article 9) লঙঘন করে জাপানকে যুদ্ধের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই অনুচ্ছেদটি জাপানকে সার্বভৌম অধিকার হিসেবে যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক বাহিনী বজায় রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও ডিজিটাল প্রতিবাদ

এবারের আন্দোলনের একটি বিশেষ দিক হলো তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ। এতদিন জাপানে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন মূলত বয়স্ক বা পারমাণবিক বোমার স্মৃতি বহনকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাও এতে যোগ দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স' (X) ব্যবহার করে আন্দোলনকারীরা একে অপরের সাথে সংগঠিত হচ্ছেন।

বিক্ষোভকারীদের একজন আকরি মায়েজোনো বলেন, "জনগণের মতামত না নিয়ে সংবিধানের এমন মৌলিক পরিবর্তন মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই শান্তি, যুদ্ধ নয়।"

বিভক্ত জনমত ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

জাপানের জনমত বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। একদল মনে করছেন বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শক্তিশালী সেনাবাহিনী প্রয়োজন। অন্যদলের আশঙ্কা, এই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি জাপানকে ভবিষ্যতে কোনো বড় সংঘাতে জড়িয়ে ফেলবে। ২০৩১ সালের মধ্যে তাইওয়ানের নিকটবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা জাপানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বড় অস্থিরতা তৈরি করেছে।