হরমুজ প্রণালী দ্রুত সচল করার আহ্বান চীনের: বেইজিংয়ে ইরান-চীন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
বেইজিং – বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী 'যত দ্রুত সম্ভব' পুনরায় সচল করার আহ্বান জানিয়েছে চীন। বুধবার বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই আরাগচির প্রথম বেইজিং সফর। বৈঠকে ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন যে, একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি অর্জন এখন 'জরুরি অগ্রাধিকার' এবং উত্তেজনা কমাতে বেইজিং সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত।
সংকটে বিশ্ব জ্বালানি পথ
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষের অবরোধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। উল্লেখ্য, চীনের মোট আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১২ শতাংশই আসে ইরান থেকে। ফলে এই নৌপথ বন্ধ থাকায় বেইজিং গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
ওয়াং ই বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই প্রণালীতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধারের বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দ্রুত এই আহ্বানে সাড়া দেবে।"
কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও মার্কিন অবস্থান
পাকিস্তান-ভিত্তিক মধ্যস্থতায় গত এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেছে উভয় পক্ষই। তবে ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধকে 'অনিরাপদ ও বিপজ্জনক' বলে অভিহিত করেছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই বিষয়ে অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থান বজায় রেখেছেন। আগামী সপ্তাহে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়টি মূল আলোচনায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
দীর্ঘ ১০ বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফরের এই সম্ভাবনাকে বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে চীন যেমন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে, অন্যদিকে ইরানও চীনের সাথে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
এখন বিশ্ববাসীর নজর আগামী সপ্তাহের সেই শীর্ষ বৈঠকের দিকে, যেখানে নির্ধারণ হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ।
